1. admin@tbcnews24.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

যশোরে সেপ্টিট্যাংকের ভেতর গৃহবধুর মরদেহ

শিমুল হাসান
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২২
  • ৮৮ বার পঠিত

যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপ্টিট্যাংকের মধ্যে থেকে ফহিমা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা কান্ডের রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকারী স্বামী জাহাঙ্গীর মোড়লকে (৪২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) টিম যশোর। পিবিআই এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

জানা যায়,ফাহিমা বেগমের লাশ উদ্ধারের আগে নরেন্দ্রপুর দফাদার ইট ভাটার শ্রমিক জাহাঙ্গীর মোড়ল ও তার স্ত্রী ফাহিমা বেগমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরবর্তীতে পিবিআই যশোর টিম কর্তৃক সাতক্ষীরা জেলার তালা থানায় যোগাযোগ করে ফাহিমা এবং জাহাঙ্গীর মোড়ল নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি সংগ্রহ করে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। এবং তাদেরকে যশোরে আনা হয়। পরে তারা অজ্ঞাতনামা মৃতদেহটি ফাহিমা বেগম এর বলে সনাক্ত করে।

ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও ঘাতক স্বামীকে গ্রেফতারের জন্য মাঠে নামে পিবিআই যশোর জেলার চৌকস দল। ছায়া তদন্ত করাকালীন পুলিশি অভিযানে গত শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) রাত চারটার সময় ফাহিমা বেগমের হত্যাকারী অভিযুক্ত স্বামী জাহাঙ্গীর মোড়লকে(৪২) তালা উপজেলার কানাইদিয়া রনখোলা বাজার থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় সিবিআই টিম। ঘাতক স্বামী জাহাঙ্গীর মোড়ল সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার সাতপাখিয়া গ্রামের দাউদ মোড়লের ছেলে।

হত্যাকান্ড সংক্রান্তে নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে যশোর কোতায়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলাটির তদন্তে নামে পিবিআই যশোর।

হত্যাকারী জাহাঙ্গীর মোড়লকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় ২১ বছর পূর্বে জাহাঙ্গীর মোড়ল এর সাথে ফাহিমা বেগমের ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই মেয়ে  মরিয়ম (১৮) এবং মুসফিকা (১১) রয়েছে। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মোড়ল ও তার স্ত্রী ফাহিমা বেগম যশোর জেলা সহ বিভিন্ন জেলায় ইটের ভাটায় কাজ করতো। দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে মনোমালিন্য ছিল এবং প্রায়ই ঝগড়াঝাটি হতো। এক পর্যায়ে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরে গ্রামে ধানের কাজ শেষ করে জাহাঙ্গীর মোড়ল এবং তার স্ত্রী ফাহিমা বেগম সকাল দশটার সময় নিজ বাড়ী থেকে বের হয়ে জাহাঙ্গীরের শ্বশুরবাড়ী চরগ্রাম যায়। সেখান থেকে বিকাল অনুমানিক সাড়ে তিনটা থেকে চারটার ভিতর  তালা ব্রীজ পার হয়ে ইজিবাইকস্ট্যান্ড হতে তারা ইজিবাইকে করে চুকনগর আসে। চুকনগর থেকে বাসে টিকিট কেটে যশোরে ইট ভাটার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে চিনাটোলা বাজার থেকে একটু সামনে বাস নষ্ট হয়ে গেলে তারা ইজিবাইকে করে মনিরামপুর থানার পাশে যায়।

মনিরামপুর থানার সামনের ক্লিনিকে ফাহিমা বেগম বাথরুমে যায়। সেখান থেকে বের হয়ে তারা মাছের আড়ৎ পার হয়ে মন্দিরের সামনে থেকে ইজিবাইকে করে নরেন্দ্রপুর মোড়ে এসে নামে। তারপর সেখানে ইজিবাইক বা ভ্যান না পাওয়ায় জাহাঙ্গীর মোড়ল ও ফাহিমা বেগম পায়ে হেটে ইট ভাটার উদ্দেশ্যে রওনা করে এবং চলতি পথে তাদের ব্যক্তিগত ও সাংসারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া চলতে থাকে। নরেন্দ্রপুর হাই স্কুলের কাছাকাছি আসলে ফাহিমা বেগম জাহাঙ্গীর মোড়লের সহিত খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি বেধে যায় এবং ফাহিমা বেগম জাহাঙ্গীর মোড়লকে রেখে সামনে হাটতে থাকে। তখন জাহাঙ্গীর মোড়ল পেছন থেকে রাস্তার পাশে পাওয়া বাঁশ উঠিয়ে ফাহিমা বেগম এর মাথার পেছনে জোরে আঘাত করলে ফাহিমা বেগম উপুড় হয়ে পিচের রাস্তার পাশে পড়ে যায়।

ফাহিমা বেগম পড়ে গেলে স্বামী জাহাঙ্গীর মোড়ল ফাহিমা বেগম এর পরিহিত ওড়না ভিকটিমের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর জাহাঙ্গীর মোড়ল ফাহিমা বেগম এর মৃতদেহ ওড়না দিয়ে টেনে স্কুলের বাইরে কাচাঁ রাস্তার পাশে বাথরুমের টেংকির কাছে নিয়ে যায়। টেংকির ঢাকনা ঊঠিয়ে ফাহিমা বেগম এর মৃতদেহ টেংকির মধ্যে ফেলে দিয়ে টেংকির মুখে ঢাকনা দিয়ে আটকে দেয়।

অতপর গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) প্রত্যক্ষদর্শী নরেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিবপদ বিশ্বাস ট্যাংকি থেকে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ফাহিমা বেগমের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা