1. admin@tbcnews24.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:১০ অপরাহ্ন

কুমিল্লা’য় স্ত্রীকে আগুনে জ্বালিয়ে হত্যা! ঘাতক স্বামী র‌্যাবের হাতে আটক

আব্দুল্লাহ আল মানছুর
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২
  • ৯৭ বার পঠিত

গত ১১ মার্চ ২০২২ইং তারিখে কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার ডেউয়াতলী এলাকায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ইয়াসমিন আক্তার(২২) নামে একজন গৃহবধূ মারা যায়। যার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের ভাই রাকিব হোসেন ১২/০৩/২০২২ইং তারিখ বাদী হয়ে কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন, যার অপমৃত্যু মামলা নং-০২, তারিখ ১২/০৩/২০২২ইং। ঘটনাটি বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে কুমিল্লাসহ সারা দেশে ব্যপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়। বেশ কিছু গণমাধ্যম দূর্ঘটনার বিষয় নিয়ে নানাবিদ প্রশ্ন উৎথাপন করলে এবং একই সাথে ঘটনাটিঅত্যন্ত নির্মম ও হৃদয় বিদারক হওয়ায় র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা এর গোয়েন্দা দল উক্ত ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিকভাবে ভিকটিমের স্বামী রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। পরবর্তীতে রেজাউলের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের দেওয়া তথ্য অসামঞ্জস্য মনে হলে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা এর সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পরবতীতে ভিকটিমের মা, ভাই এবং আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায়- ২০১৭ সালের শুরুতে রেজাউল করিম ভিকটিম ইয়াসমিন আক্তার এর বাড়ির (চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ থানার ডিংগাভাঙ্গা) পাশে ‘‘পেইজ” নামক একটি বেসরকারি সংস্থায়চাকুরী করতো। উক্ত বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার সুবাদে রেজাউল করিমের সাথে ভিকটিমের মা বেবী আক্তারের পরিচয় হয়। সেই সুবাদে আসামী রেজাউল করিম ঋণের কিস্তির টাকা নিতে ভিকটিমের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। আসা যাওয়ার একপর্যায়ে ভিকটিম ইয়াসমিন আক্তার এর সাথে রেজাউল করিমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। উক্ত প্রেমের সম্পর্কটি এলাকায় জানাজানি হলে ভিকটিমের পূর্বের স্বামী আনোয়ার হোসেনের সাথে ভিকটিমের তালাক হয়ে যায়। তাই খুব অল্প পরিসরে তাৎক্ষনিকভাবে কোন প্রকার কাবিন ও ইসলামিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই রেজাউল করিম ভিকটিম ইয়াসমিন আক্তারকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে রেজাউল করিম ভিকটিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে উঠিয়ে নেয়ার কথা বলে ভিকটিমের মাকে আশ্বস্ত করে তড়িঘড়ি করে মালদ্বীপ চলে যায়। রেজাউল মালদ্বীপ গিয়ে ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলেও ভিকটিমের চাপে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে না এবং ভিকটিম বিভিন্নভাবে রেজাউলকে দেশে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করতে চাপ প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে গত ০৭ জানুয়ারি ২০২২ইং তারিখে রেজাউল মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরে আসে এবং অনেকটা বাধ্য হয়ে পরিবারের অমতে গত ১০ জানুয়ারি ২০২২ইং তারিখে ভিকটিম ইয়াসমিন আক্তার, পিতা-মৃত আক্তার হোসেন, মাতা-বেবী আক্তার, সাং-ডিংগাভাঙ্গা, থানা-মতলব দক্ষিণ, জেলা-চাঁদপুর এরসাথে রেজাউল করিম অনেকটা বাধ্য হয়েই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের পর রেজাউল করিম ভিকটিমকে তার বাড়ি বরুড়া থানাধীন ডেউয়াতলী গ্রামে নিয়ে আসে।যেহেতু রেজাউল পরিবারের অমতে বিয়ে করেছে সেহেতু রেজাউল এর পরিবার ভিকটিমকে মন থেকে মেনেনেয়নি অপরদিকে রেজাউলও ভিকটিমের সাথে দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক জীবনে অনাগ্রহী ছিল। তাই ভিকটিমের পরিবার অর্থনৈতিভাবে অসচ্ছল যেনেও রেজাউল ভিকটিমকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে এবং এতে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। একদিকে রেজাউলের পরিবার অপর দিকে যৌতুকের চাপের কারণে তাদের পারিবারিক কলহ চরমে উঠে। সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রæয়ারি ২০২২ইং তারিখে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ সামাজের ব্যক্তিবর্গ সালিশে বসে বিষয়টি সমাধান করেন এবং তাদেরকে একত্রে থাকতে বলেন। সালিশে রেজাউল বিষয়টি মেনে নিয়ে একত্রে থাকতে শুরু করে কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে। ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয়ভাবে এসব তথ্য প্রাপ্তির পর র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা এর গোয়েন্দা দল আরও গভীরভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে এবং ভিকটিমের স্বামীর সন্ধানে একাধিক টিম নিয়োগ করে। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারীর সূত্র ধরে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল ২৮ মার্চ ২০২২ইং তারিখ রাত ৯ টা’য় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানাধীন ইপিজেড এলাকা থেকে আতœগোপনে থাকা অবস্থায় রেজাউল করিম(৩০), পিতা-আলতাফ হোসেন, সাং-ডেউয়াতলী (মোল্লাবাড়ী), থানা-বরুড়া, জেলা-কুমিল্লা‘কে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তাকে এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। গ্রেফতারকৃত রেজাউল করিম জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, গত ১০ মার্চ ২০২২ইং তারিখ বিকেলে রেজাউলের সাথে ভিকটিম ইয়াসমিন আক্তারের বিভিন্ন বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলে রেজাউল ভিকটিমকে চড়থাপ্পড় দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। রেজাউল ভিকটিমকে চড়থাপ্পড় মারলে রেজাউলের নখের আঁচড়ে ভিকটিমের গালের নিচে আঁচর পড়ে। পরবর্তীতে আনুমানিক রাত ৭টার সময় পুনরায় তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হলে রেজাউলের বাবা মা তাদেরকে চুপ থাকতে বলে। আনুমানিক রাত ৯টার সময় রেজাউলের বাবা মা ঘুমিয়ে গেলে পুনরায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রেজাউল ক্ষীপ্ত হয়ে ভিকটিম ইয়াসমিন বেগমের গলায় দুই হাত দিয়ে চেপে ধরলে ভিকটিম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। রেজাউল তার স্ত্রী ভিকটিম ইয়াসমিন আক্তার এর চোখে মুখে পানি দিয়ে জ্ঞান ফিরানো চেষ্টা করে এবংভিকটিমের শ্বাস ঠিক আছে বলে অনুধাবন করে। তার কিছুক্ষণ পরে রেজাউল ভিকটিমের গায়ে হাত দিয়ে দেখে ভিকটিমের শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে। পরবর্তীতে সে বুজতে পারে তার স্ত্রী আর বেঁচে নেই। এমতাবস্থায় সে সারারাত চিন্তা করতে থাকে তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার ও লোকমুখে জানাজানি হলে সে কি জবাব দিবে। চিন্তা ভাবনার একপর্যায়ে ১১ মার্চ ২০২২ইং তারিখ আনুমানিক ভোর ৫টার সময় সে তার স্ত্রী ভিকটিম মৃত ইয়াসমিন আক্তারের সারা শরীরে তার ঘরে থাকা কেরোসিন তৈল ঢেলে আগুন লাগিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে প্রতিদিনের ন্যায় ফজরের নামাজ পড়তে চলে যায় এবং নামাজ শেষে স্থানীয় লোক জনের আগুন লাগার বিষয়ে কোন আওয়াজ না পাওয়ায় সে পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারতের উদ্দেশ্যে চলে যায়। ইতিমধ্যে রেজাউল কবরস্থানে থাকা অবস্থায় স্থানীয় লোক জনের মাধ্যমে আগুন লাগার বিষয়ে জানতে পারে এবং অতিদ্রæত তার বাড়িতে গমন করে। স্থানীয়দের আগুন নিভানোর সময় রেজাউল ও তাদের সাথে আগুন নিভানোর ভান করতে থাকে এবং বলতে থাকে ঘরের ভিতর তার স্ত্রী ও তার বিদেশ যাওয়ার সকল কাগজপত্রসহ টাকা পয়সা রয়েছে। বিষয়টি বলতে বলতে রেজাউল জ্ঞান হারানোর ভান ধরে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয় এবং তার স্ত্রীর জানাজা শেষে হাসপাতাল হতে সে আত্মগোপনে চলে যায়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সে দ্রæত দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করে। উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা