1. admin@tbcnews24.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৮:০৯ অপরাহ্ন

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে দুদকে তলব

ডেক্স রিপোর্ট //
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২
  • ৩৩ বার পঠিত
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আগামী ৩০ মার্চ তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ।

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম যেন পিছু ছাড়ছে না। একের পর এক অনিয়ম জালিয়াতে সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার মোরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে এমবি এর সদন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আগামী ৩০ মার্চ তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ।

অনিয়ম, দূর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতাসহ নানা কারণে প্রায়ই খবরের শিরোনাম হচ্ছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রারের বিরুদ্ধে এমবি-এর সনদ জালিয়াতি, নিয়োগ বিধি লঙ্ঘনসহ তথ্য গোপান করে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগ উঠছে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০১১ সালে সহকারি রেজিষ্ট্রার পদে যোগদান করে মোরাদ হোসেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা হিসেবে ২ বছরের অভিজ্ঞতা সনদ জমা দেয়ার কথা থাকলেও অভিজ্ঞতা না থাকায় সেটি জমা দেননি। এমনকি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮ সালের এমবি এর শিক্ষা সনদ জমা দিলেও সেটিতে রোল নম্বর, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষাবর্ষ ও সনদ এর ক্রমিক নং নেই। এ বিষয়ে বার বার যোগযোগ করা হলেও মূল শিক্ষা সনদ দেখাতে পারেননি তিনি।

এদিকে, ২০০৬ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়েকে অবৈধ ঘোষনা করে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। এরপর মামলা করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। যদিও ২০১৬ সালে ২০০৬ সাল থেকে সব সনদ অবৈধ ঘোষনা করে রায় প্রদান করে হাইকোর্ট। তবে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বক্তব্য, এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। যদিও ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেব চাকরি করছেন মোরাদ হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোরাদ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে, তিনি যখন সনদ নিয়েছেন তখন বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু ছিল।

এদিকে, নিয়োগ বিধি প্রণয়ন কমিটির সদস্য বলছেন, জালিয়াতির প্রমান পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিধি প্রণয়ন কমিটির সদস্য তুহিন মাহমুদ বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যদিও উপাচার্যের দাবী, ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে মোরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কিউ এম মাহবুব বলেন, মোরাদ ও তার বিরুদ্ধে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অকার্যকর করার পাঁয়তারা করছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করবেন তারা। দোষী প্রমানিত হলে নেয়া হবে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরী কমিশন, (ইউজিসি)-এর সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজ বেগম টেলিফোনে জানান, এমন কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনায় সকল শিক্ষা সনদ ও সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রেকর্ডপত্রসহ মোরাদ হোসেনকে ৩০ মার্চ দুদুক কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে।

মোরাদ হোসেনের জমা দেওয়া অফিস আদেশ ও এমবিএ সনদে দেখা গেছে, ২০০৮ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিজিপিএ ৩.৮৩ পেয়ে এমবিএ পাস করেন। এর আগে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০২ সালের ১৯ মে অ্যাডহকের মাধ্যমে সেকশন অফিসার পদে যোগ দেন। এরপর ২০০৬ সালের ১৯ জুন সিনিয়র অফিসার এবং ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল একই বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন। অন্যদিকে মোরাদ হোসেনের দাখিল করা এমবিএ সনদে রোল, নিবন্ধন, ক্রমিক নম্বর ও শিক্ষাবর্ষ উল্লেখ নেই।

২০১৬ সালের ২৫ জুলাই উচ্চ আদালত ২০০৬ সালের পর থেকে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম ও সনদ অবৈধ ঘোষণা করেন। তখন সিনিয়র অফিসার হিসেবে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন মোরাদ হোসেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মোরাদ হোসেন বলেন, ‘এ নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না। শুধু এইটুকু বলবো, আমি ২০০৮ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছি। ওই সনদ জমা দিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ছোট বোনের স্বামী মোরাদ হোসেনকে ভুয়া ও অবৈধ শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে চাকরি দিয়েছেন তৎকালীন উপাচার্য এম খায়রুল আলম। ১১ বছর ধরে অবৈধভাবে চাকরি করছেন মোরাদ।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কি উ এম মাহবুব বলেন, ‘এসব বিষয় বাদ দেন তো আপনারা। বিষয়টি আপনারা বুঝতেছেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক তার বিরোধিতা করছেন। মোরাদ হোসেনকে তাড়ানোর ব্যবস্থা করতেছেন প্রতিপক্ষের লোকজন। তারা জানে, তাকে সরাতে পারলে আমি অকেজো হয়ে যাবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘রেজিস্ট্রার মোরাদ হোসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাস করেছেন। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রি দিয়ে কি হবে? আমার ঘরের ভেতর হাজার সমস্যা। তার মধ্যে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি করার কোনও দরকার নেই।’

২০০০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০০২ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পে চাকরি করেন মো. মোরাদ হোসেন। ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে অস্থায়ী ভিত্তিতে সহকারী রেজিস্ট্রার ও একই বছরের ১ আগস্ট সহকারী রেজিস্ট্রারের স্থায়ী পদে যোগ দেন তিনি। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উপ-রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পান। ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত মোরাদ হোসেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

ফেসবুকে আমরা